বেলজিয়ামে নালা খুঁড়তে গিয়ে স্বর্ণের ভান্ডার পেলেন ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী

প্রকাশ:

বেলজিয়ামের সিন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমোন্ড এলাকায় মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রায় ৯০ লাখ ইউরো মূল্যের এক বিশাল স্বর্ণের ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে নির্মাণকাজে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় এই ঘটনা ঘটে। কোবে নামের ওই শিক্ষার্থী তার সহকর্মীদের সঙ্গে একটি পুরোনো মদ তৈরির কারখানার জায়গায় নালা তৈরির জন্য মাটি খনন করছিলেন।

কোবে বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম ভিটিএমকে জানান, শুরুতে তাদের মনে হয়েছিল মাটির নিচে পাওয়া বস্তুগুলো হয়তো এক ইউরোর মুদ্রা। কিন্তু খননকাজ চালিয়ে যাওয়ার সময় তারা স্বর্ণের বার দেখতে পান, তখন তারা বুঝতে পারেন এগুলো সাধারণ কিছু নয়। উদ্ধার হওয়া সম্পদের মধ্যে স্বর্ণের মুদ্রা, স্বর্ণের টুকরা এবং নম্বরযুক্ত স্বর্ণের বার রয়েছে, যা একটি ব্যাগে রাখা ছিল। ভিলাটির নিচের দেয়ালে ইট দিয়ে ঘেরা একটি গোপন স্থানে ব্যাগটি লুকানো ছিল।

ভবনটি উনিশ শতকের শেষ দিকে মদ তৈরির কারখানার মালিক থিওফিলাস ভ্যান আসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভ্যান ল্যাঙ্গেনহোভেস্ট্রাট এলাকায় অবস্থিত এই ভবনটি বর্তমানে সংস্কার করা হচ্ছে। সামাজিক কল্যাণ সংস্থা সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্দেরেন সেখানে তাদের নতুন কার্যালয় ও আবাসন তৈরির কাজ করছে। সংস্থাটির কর্মকর্তা গির্ট হিলার্ট জানান, ভবনটির ভেতরের সবকিছু সরিয়ে ফেলা হলেও দেয়ালগুলো অবশিষ্ট ছিল, যেখানে শ্রমিকেরা পাইপ বসানোর সময় এই স্বর্ণের সন্ধান পান।

স্বর্ণ পাওয়ার পর কোবে ও তার সহকর্মীরা কোনো প্রকার লোভ না করে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও সিএডব্লিউ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। বর্তমানে স্বর্ণগুলো ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। ইস্ট ফ্লান্দেরেনের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের কর্মকর্তা হানে ওলভিয়ের জানান, এগুলো চুরি করা সম্পদ কি না বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, কোনো মূল্যবান সম্পদ বা গুপ্তধন পাওয়ার পর মালিকানা নির্ধারণে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বর্তমানে ঠিকাদার, সিএডব্লিউ এবং ভ্যান আস পরিবারের উত্তরাধিকারীরা এই সম্পদের ওপর দাবি জানাতে পারেন। তবে কোবে আশা করছেন, সততার পুরস্কার হিসেবে শেষ পর্যন্ত তারা হয়তো কোনো স্বীকৃতি পাবেন।

ওই স্থানে মদ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ১৮৯৯ সালে। তা বন্ধ হয় ১৯৭০ সালে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী হিসেবে তালিকাভুক্ত ভবনটি পুরোপুরি সংস্কার করা হচ্ছে। সামাজিক কল্যাণ সংস্থা সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্দেরেন সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসন তৈরির কাজ করছে।

শেয়ার করুন