১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধের জের: অস্ত্র ঘাটতির কথা স্বীকার ট্রাম্পের

প্রকাশ:

ইরান যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২ অক্টোবর) খ্যাতনামা সাময়িকী ‘টাইম’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভয়াবহ—এমনটা না বলে তিনি এটিকে আংশিক সংকট হিসেবেই অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, যুদ্ধের প্রয়োজনে ব্যবহারের ফলে নির্দিষ্ট কিছু ধরনের গোলাবারুদের মজুদ বর্তমানে কমে এসেছে।

এই সামরিক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে মার্কিন প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাও সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যের বিস্তারিত উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প জানান, প্রয়োজনীয় অস্ত্রের যোগান নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে যুদ্ধাস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন নতুন কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এই উদ্যোগকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে ট্রাম্পের আগের দাবিগুলোর চেয়ে এবারের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। পূর্বে তিনি ইরান যুদ্ধের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও, সাক্ষাৎকারে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা বা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন যখন মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে তার জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও এনওআরসি সেন্টারের সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির ওপর বর্তমানে মাত্র ২৬ শতাংশ আমেরিকান আস্থা রাখছেন, যা তার পুরো শাসনামলে সর্বনিম্ন একটি সংখ্যা। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সমরাস্ত্র ব্যবস্থাপনা এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

শেয়ার করুন