বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার এক সপ্তাহের মধ্যেই অবসরে স্লাভকো ভিনচিচ

প্রকাশ:

বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই রেফারিং থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। স্লোভেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভিনচিচের এই মৌসুমটি আগে থেকেই তার ক্যারিয়ারের ‘বিদায়ী মৌসুম’ হিসেবে নির্ধারিত ছিল, তাই এই অবসরের সিদ্ধান্ত ফাইনালের কোনো সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়নি।

এবারের বিশ্বকাপে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন ১৬ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ে চেলসি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে লাল কার্ড দেখান ভিনচিচ। এবারের আসরে তিনি মোট চারটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। যার মধ্যে ছিল গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-মরক্কো ও জর্ডান-আলজেরিয়া ম্যাচ এবং শেষ ষোলোয় মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচ, যেখানে ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপিয়েকে লাল কার্ড দেখান তিনি।

ফিফা যখন তাকে ফাইনালের রেফারি হিসেবে ঘোষণা করে, তখন তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান ফেডারেশন (আইএফএফএইচএস) তাকে এবারের বিশ্বকাপের সেরা রেফারি নির্বাচিত করে। এছাড়াও ইতালিয়ান রেফারিদের সংগঠন এআইএ তাকে দ্বিবার্ষিক জুলিও কাম্পানাতি পুরস্কারে ভূষিত করে। এই পুরস্কার ও সম্মাননাগুলোকে তার বিদায়ী মৌসুমের মুকুট হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও তিনি দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক জয়টি অন্যতম। ২০১৯ সাল থেকে উয়েফার এলিট রেফারি প্যানেলের সদস্য ভিনচিচ ইউরো ২০২০ এবং ২০২৪ সালের স্পেন-ইতালি সেমিফাইনাল পরিচালনা করেছেন। তার দীর্ঘ ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে উয়েফার শীর্ষ দুই ক্লাব প্রতিযোগিতায় ৭২টি ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার ক্যারিয়ারের বড় প্রাপ্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, ২০২২ সালের ইউরোপা লিগ ফাইনাল এবং ২০২১ সালের ইউরোপা লিগ ফাইনালে চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন। ২০১২ ইউরোর ষষ্ঠ রেফারি হিসেবে যাত্রা শুরু করা ভিনচিচ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপ ফাইনাল দিয়েই নিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ইতি টানলেন।

ভিনচিচের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রাপ্তি ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে রেকর্ড ১৫তম শিরোপা জেতে।

শেয়ার করুন