ফারিস্তা নূর নামের ছয় মাস বয়সী এক শিশু বর্তমানে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে একই সঙ্গে হাম ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকসহ চিকিৎসকরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তরের জন্য তাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে।
গতকাল দুপুরে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুটিকে মায়ের কোলে দেখা যায়। তার শরীরে র্যাশ উঠেছে। শিশুটির মা নীলা বেগম জানান, তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে। গত মাসে শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছিল এবং এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়ে ২৫ জুলাই তারা বাড়ি ফিরেছিলেন। কয়েক দিন পর তার জ্বর আসে, যা পরে ডেঙ্গুতে রূপ নেয়। এরপর শরীরে র্যাশ দেখা দিলে তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নীলা বেগম জানান, তিনি ও তার অপর দুই সন্তান নিয়মিত টিকা নিলেও কোলের শিশুটি কীভাবে হামে আক্রান্ত হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এছাড়া বাড়ির আশপাশে হামের প্রাদুর্ভাবের কথাও তার জানা নেই। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে কয়েক মাস আগে শিশুটির এক চাচা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
হাসপাতালটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাস থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। মে, জুন ও জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল যথাক্রমে ১০, ২৫ ও ৪৯ জন। এ বছর মোট ১৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে মে মাস থেকেই হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। মে, জুন ও জুলাই মাসে হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ১৯৮, ১৫২ ও ১৪৫ জন। এ বছর ২ হাজার ১৩১ জন হামে আক্রান্ত শিশু এ হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছে।
বিশিষ্ট শিশুবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা জানান, ফারিস্তা নূরকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে। তার শরীরে যেন ফ্লুইডের ঘাটতি না দেখা দেয় এবং শ্বাসকষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। দুটি রোগকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় রোগী মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর হামে মোট ৮৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ৬৭২ জন ডেঙ্গু রোগী সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন দুজন। এ বছর জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আর মারা গেছেন ৬১ জন। গতকাল ১ হাজার ৪৪১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অন্যদিকে এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ জন ব্যক্তি হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ১১৫ জনের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৭৫ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়ার, স্বাস্থ্যবিধি মানার, টিকা নিশ্চিত করার এবং মশা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।





