নেইমারের কান্না দেখে মন ভেঙেছে সাফা কবিরের

প্রকাশ:

ব্রাজিল সমর্থক ও অভিনেত্রী সাফা কবির সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বসে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি উপভোগ করেছেন। নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে যাত্রা শুরু করে স্টেডিয়ামে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো পরিবেশটি ছিল উৎসবমুখর। সাফা জানান, গ্যালারিতে প্রায় ৭০ শতাংশ দর্শক ব্রাজিলের সমর্থক ছিলেন এবং বাকি ৩০ শতাংশ নরওয়ের সমর্থক। হলুদ জার্সির সমুদ্র দেখে তিনি জয় নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন।

২০২২ সালে যখন জানলাম ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে হবে, তখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করি। ম্যাচে আর্লিং হলান্ডের গোলে নরওয়ে এগিয়ে গেলেও সাফা শেষ পর্যন্ত আশা ছাড়েননি। একজন ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন যে ব্রাজিল ম্যাচে ফিরবে। হলান্ডের খেলার প্রশংসা করলেও, প্রিয় দলের বিপক্ষে গোল হওয়ার মুহূর্তটি তাঁর জন্য ছিল দ্বন্দ্বের। তিনি জানান, গোল হওয়ার পর তিনি বসে পড়েছিলেন এবং মনে মনে চেয়েছিলেন গোলটি যেন ব্রাজিলের কেউ করত।

বর্তমান ব্রাজিল দল নিয়ে সাফা বলেন, রোনালদো-রোনালদিনহোদের সময়ের মতো সেই চেনা জাদুকরী ছন্দ এখনকার দলে কিছুটা অনুপস্থিত। মাঠের খেলায় বোঝাপড়া ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করেছেন তিনি। খেলা শেষে ব্রাজিল সমর্থকদের কান্না ও হতাশায় ভেঙে পড়া দেখে তিনিও ব্যথিত হয়েছেন। গ্যালারিতে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে উপস্থিত হওয়ার পর অনেক ব্রাজিলিয়ান সমর্থক তার সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন, যা তাকে মুগ্ধ করেছে।

নেইমার প্রসঙ্গে সাফা কবির বলেন, ম্যাচ শেষে নেইমারের কান্নার দৃশ্য তার মন ভেঙে দিয়েছে। এটি সত্যিই নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ হলে তা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হবে। নেইমারকে তিনি একটি প্রজন্মের আবেগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। হলান্ডের সাথে দেখা হলে তিনি তাকে স্যালুট জানাতেন এবং তার শান্ত মানসিকতার প্রশংসা করতেন।

জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে এই ম্যাচটিকে বর্ণনা করে সাফা জানান, ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলের প্রতি যে ভালোবাসা ও বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন ছিল, তা বাস্তবে রূপ পাওয়াটা ছিল পরম পাওয়া। যদিও ম্যাচের ফলাফল তার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, তবুও এই স্মৃতি তার কাছে অমূল্য হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন