চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ গোল উৎসবের এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৯৬টি ম্যাচে মোট ২৮০টি গোল হয়েছে, যেখানে প্রতি ম্যাচের গড় গোলসংখ্যা ২.৯২। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর এবারের আসরেই প্রতি ম্যাচে গোলের হার সবচেয়ে বেশি। ১৯৭০ সালে ৩২টি ম্যাচে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৯৭টি গোল হয়েছিল, যা গত ৫৬ বছরে আর কোনো আসরে দেখা যায়নি। এছাড়া এবারের গড় ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের ২.৭৮ গোলের গড়কেও ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলের দিক থেকে ১৯৫৪ সালের আসরটি এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী, যেখানে ২৬টি ম্যাচে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৫.৩৮টি করে গোল হয়েছিল। অন্যদিকে ইতালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে গোলের হার ছিল সবচেয়ে কম, প্রতি ম্যাচে মাত্র ২.২১টি। সাম্প্রতিক তিনটি বিশ্বকাপের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালে গোলের গড় ছিল যথাক্রমে ২.৬৭, ২.৬৪ এবং ২.৬৯। দলসংখ্যা ৪৮-এ উন্নীত হওয়া এবং তুলনামূলক দুর্বল দলের অংশগ্রহণ গোলের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও এবারের বিশ্বকাপ বেশ সমৃদ্ধ। আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ মিসরের বিপক্ষে যে গোলটি করেন, তা ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩,০০০তম গোল। অন্যদিকে লিওনেল মেসি তার গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ২১-এ উন্নীত করেছেন এবং টানা ৯ ম্যাচে গোল করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলসংখ্যা বর্তমানে ১৯। নকআউট পর্বে এমবাপ্পে ১১টি গোল করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আশা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তিনি মেসির রেকর্ড ভাঙতে পারেন।
এছাড়া এবারের আসরে দেখা গেছে বিশেষ কিছু দক্ষতা। সেনেগালের পেপে গুয়ে ইরাকের বিপক্ষে প্রতি ঘন্টায় ১৩১.৯ কিলোমিটার গতির শটে গোল করেছেন, যা এবারের আসরের সবচেয়ে গতিময় শট। অন্যদিকে বেলজিয়ামের হান্স ভানাকেন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩২.৪৫ মিটার দূর থেকে গোল করে দূরপাল্লার শটের নজির স্থাপন করেছেন।




