রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি এলাকায় পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মেঘরানী চাকমা (৪৫), শান্তনা চাকমা (৩৮), শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬৫) ও শোভা চাকমা (৫২)। আহত দুজন হলেন পিকআপের চালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা (৫০) ও যাত্রী সুমন চাকমা (৪৫)। তাদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি পিকআপ (চট্টগ্রাম মেট্রো-ন-১১-২৫৯৯) কুতুকছড়ি বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পিকআপটি মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের দ্রুত রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শোভা চাকমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এতে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চারজনে।
নিহত মেঘরানী চাকমার বাড়ি নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায়। শান্তনা চাকমা রাঙামাটি শহরের আমানতবাগ এলাকার এবং শান্তি রঞ্জন চাকমা বিজয়নগর এলাকার বাসিন্দা। শোভা চাকমার বাড়িও নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায়। আহত পিকআপচালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা ও যাত্রী সুমন চাকমাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার সকাল ৯টার দিকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যান রাঙামাটি-সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এসময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, রাঙামাটিতে যেসব সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা রয়েছে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনা কমাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক সংস্কার ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যাত্রী ও চালকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সড়কে চলাচলের সময় চালকদের সতর্ক থাকতে হবে এবং যাত্রীদেরও নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার এসআই তোফাজ্জল হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





