র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতায় নতুন এসআরবি গঠনের অনুমোদন

প্রকাশ:

বিদ্যমান র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন এই আইনের আওতায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) যাবতীয় জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব ও রেকর্ড এসআরবি’র কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র‌্যাব সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল থাকবে। ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ ও নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধানও আইনে রাখা হয়েছে।

একই বৈঠকে মন্ত্রিসভা কাঁচামরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বিদ্যমান মোট করভার ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০.৫ শতাংশ এবং পরের মাসে ৩১ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশের অর্থবছর পরিবর্তনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছর থাকলেও, তা পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্ষাকালে উন্নয়নকাজ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং জনদুর্ভোগ কমাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে ৯ মাসে শেষ করে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন সময়কাল কার্যকর করা হবে।

বৈঠকে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি-ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর এ লিড ফ্রি বাংলাদেশ (২০২৬-২০৩৫)’ অনুমোদনের মাধ্যমে সিসা দূষণ রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। বিবিএস-এর জরিপ অনুযায়ী, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের ৩৮.৩৪ শতাংশ এবং গর্ভবতী নারীদের ৭.৫৪ শতাংশের রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রার সিসা রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় সিসা বিষক্রিয়ার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা জেলায় ৬৫.২ শতাংশ শিশুরা সিসা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া, আইসিডিডিআর,বি’র সম্প্রতি গবেষণায় ঢাকার ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে রক্তে সিসার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। এই কৌশলপত্রের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা ৫০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন