ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটায় দেশটিতে সেনা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পশ্চিমা হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার রুশ সেনা হতাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায় চুক্তিবদ্ধ সেনা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় দ্বিতীয়বারের মতো বাধ্যতামূলক সৈন্য সমাবেশ এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে পুতিনের ক্রেমলিন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার তিন লাখ রিজার্ভ সেনা তলবের মতো রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এড়িয়ে এবার মস্কো নতুন সেনা নিয়োগে উচ্চ বেতন, মোটা অঙ্কের বোনাস এবং নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এমনকি দরিদ্র অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের একাধিক বছরের বেতনের সমান অর্থ এককালীন দিয়ে বাহিনীতে টানার চেষ্টা চলছে। এছাড়া কারাগারের দাগী বন্দি এবং শিক্ষার্থীদেরও ড্রোন ইউনিটে যুক্ত করা হচ্ছে।
নতুন সেনা সংগ্রহের জন্য রুশ অঞ্চলের গভর্নর ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দিষ্ট কোটা পূরণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি নতুন সেনা এনে দিলে মধ্যস্থতাকারীদেরও মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিয়েও পর্যাপ্ত লোক না পেয়ে কিছু এলাকায় জোরজবরদস্তি, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চুক্তিতে সই করানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে পুরুষদের চুক্তি সইয়ে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটছে।
মস্কো প্রতিদিন প্রায় এক হাজার নতুন সেনা যুক্ত করতে সক্ষম হলেও তা মূলত রণক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো পূরণ করতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। যদিও রুশ কর্মকর্তারা নতুন সৈন্য সমাবেশের খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিয়োগ পদ্ধতিতে ঘাটতি না মিটলে পুতিন প্রশাসনকে আবারও নতুন করে সৈন্য সমাবেশের ঝুঁকি নিতে হতে পারে।





