কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বেলা পৌনে ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন।
ব্রিফিং শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় তাকে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে জানান। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষ করেন। এরপর তিনি হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করেন। তিনি জানতে পারেন যে, ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্মীদের এই সক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি তাদের উৎসাহ দেন। একই সাথে প্রকল্পের আওতায় থাকা কয়লা পরিবহন বন্দর, সঞ্চালন লাইন এবং অ্যাকসেস রোডসহ অন্যান্য অবকাঠামোর কার্যক্রম সম্পর্কেও তিনি অবহিত হন। এই প্রকল্পে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন অ্যাজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় একটি নিমের চারা রোপণ করেন। এছাড়া কোল জেটি থেকে গভীর সমুদ্রবন্দর ও এলপিজি টার্মিনালসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের স্থান নিয়েও তিনি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহৎ অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গভীর সমুদ্রবন্দরের সমন্বিত উন্নয়ন দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন। এসময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দু’টি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে মোট এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
আজ রোববার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন।





