দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপাতত তাড়াহুড়ো না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। ১৫ জুলাই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে। সরকারি ও দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসবে এবং সেখানেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনের আগে দলীয় নাকি বাইরে থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কিছুটা সময় নেওয়ার পেছনে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। সরকার আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ জুলাই জাতীয় সনদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্রপতির বর্তমান আলংকারিক পদের ক্ষমতার পরিধি কতটুকু পরিবর্তিত হবে, তা স্পষ্ট হওয়ার পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে দলের ভেতর ও বাইরে জোর আলোচনা চলছে। দলের একটি অংশ তাঁকে প্রার্থী করার ব্যাপারে বেশ তৎপর। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মির্জা ফখরুলের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং দলের বাইরেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতার কথা উঠে আসছে। এমনকি সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ অনেকেই তাঁকে এই পদের জন্য সেরা প্রার্থী বলে মত দিয়েছেন।
তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দল ও সরকারে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন হবে। তাঁকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে, বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে সরতে হবে এবং তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটিও শূন্য হবে। এর বাইরেও খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে। দলের বাইরে থেকে কোনো সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও বিবেচনায় রাখা হয়েছে, তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন হবে না, বরং আগামী সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত অধিবেশনেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে। নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন সবার দৃষ্টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের দিকে।





