শিল্পনগরী গাজীপুরে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অবর্ণনীয় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন ও শিল্প উৎপাদন। জেলাজুড়ে এলাকাভেদে প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বিশেষ করে শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়ার মতো গ্রামীণ জনপদে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বেশি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। গাজীপুরের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রিন্টিং প্রেসগুলো বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসেও। লো ভোল্টেজ ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টিভি ও অন্যান্য মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তীব্র গরম ও বিদ্যুৎহীনতায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকা ও তীব্র গরমে পোলট্রি খামারে দুই শতাধিক মুরগি হিটস্ট্রোকে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, তাদের ৫৩৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩৮৪ মেগাওয়াট, যার ফলে ২৮ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। অপরদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের ১৬৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১৪৮ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।





