৫ সেপ্টেম্বর একই দিনে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। দলটির ঘোষিত পাঁচ দিনের কর্মসূচির সমাপনী দিনে অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে বিশাল লংমার্চের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ২০২৪ সালের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এই লংমার্চের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিগত ফ্যাসিবাদের গণহত্যাকারীদের বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও রাজপথের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া একটি 'এসিড টেস্ট'। একদিকে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটানোর দায়, অন্যদিকে ক্ষমতার স্থিতিশীলতা রক্ষা—এই দুইয়ের চাপে সরকার কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নৈরাজ্য ও সঙ্ঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে আগ্রহী। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছি। এখনও অবরোধ, হরতালের মতো কর্মসূচিতে যাইনি। জুলাই সনদ, গণভোট বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত কর্মসূচি দিচ্ছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আমরা থাকব। রাজনীতির বিতর্ক পার্লামেন্টেই থাকবে। এর আগে সংসদের ১২তম অধিবেশনের প্রথম দিনেও বিরোধী দল ওয়াকআউট করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।
বিরোধী জোটের সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি এখনই বিল আকারে না আনার সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি। ফলে, এই ২০টি অধ্যাদেশের কার্যকারিতা থাকছে না। বিরোধী জোটের অভিযোগ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি দলের অনীহা তাদের রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত বলেন, সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গণভোটের রায় মানতে চাচ্ছে না, তাই তারা মাঠে নেমেছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে অবশ্য শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতির বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং যেকোনো দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে স্বাগত জানায়। এদিকে ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলের লংমার্চ এবং একই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ আলোচনা সভা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক মেরুকরণ ও উত্তাপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা বিএনপির শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে সমমনা ও ইসলামপন্থী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোটের কর্মসূচি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।




