মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ওআইসির ৫৭ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাকে এই পদে নির্বাচিত করেন। আগামী নভেম্বরে তিনি বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। হুসেইন ইব্রাহিম তাহা ২০২১ সালের নভেম্বরে ওআইসির মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
নতুন মহাসচিব হিসেবে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ ফিলিস্তিন ইস্যুকে ওআইসির অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক—এই তিন দিক থেকেই ফিলিস্তিন ইস্যু ওআইসির আলোচনার প্রধান বিষয় হিসেবে থাকবে। এছাড়াও, ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায় ওআইসির প্রচেষ্টা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মুসলমানদের প্রতি ঘৃণাসূচক বক্তব্য প্রতিরোধ, পারস্পরিক সংলাপ ও সম্মান সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কথাও বলেছেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা শুরু থেকেই আফ্রিকার সমর্থন পেয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য তাকে ওআইসির মহাসচিব পদে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়। এ সময় মৌরিতানিয়াকে উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিবের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই মেয়াদ একবার নবায়ন করা যায়। মহাসচিব নির্বাচনের সময় ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব দেওয়া এবং সমান সুযোগের নীতি বিবেচনা করা হয়। প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওআইসির সনদে আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে মহাসচিবের পদ দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা না থাকলেও, নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় পালাক্রম ও ভৌগোলিক ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।
৬৬ বছর বয়সি ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তিন দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কাজ করেছেন এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি লিবিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি, আবাসিক সমন্বয়কারী ও মানবিক সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারও আগে, ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ছিলেন এবং ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায় একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক ও জাতিসংঘের অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামী নভেম্বরে বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসির মহাসচিবের দায়িত্ব নেবেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।





