গাজীপুরের পাতারটেকে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি সম্পন্ন করেছে প্রসিকিউশন। রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান। শুনানিতে প্রসিকিউটর তামিম অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশজুড়ে ভিন্নমত ও ইসলামী মতাদর্শ নির্মূলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি ভীতিকর সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাগুলোকে নিয়মিতভাবে ‘জঙ্গি দমনের’ নাটক হিসেবে প্রচার করা হতো, যা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পাতারটেকের ঘটনা সম্পর্কে প্রসিকিউশন জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে তুলে নিয়ে বগুড়ার একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় সোলায়মান সরকারের বাড়িতে তাদের নেওয়া হয়। সেখানে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নেতৃত্বে ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামে একটি অভিযানের মাধ্যমে সাতজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউটর তামিম আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিহতদের পরিবারের সদস্যদের লাশ নেওয়ার সময় তদন্তের হুমকি দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় চারজনের পরিচয় এখনও অজানা, বাকি তিনজন হলেন মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ইবরাহীমের বাবা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বগুড়ার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সিটিটিসির সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর হাছান। বর্তমানে শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নথিপত্র দেরিতে পাওয়ার অজুহাতে ডিসচার্জ চেয়ে শুনানির জন্য সময় প্রার্থনা করেন। প্রসিকিউশন এতে আপত্তি না জানানোয় ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল এবং এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।





