বিএনপির সঙ্গে কেন বনিবনা হয়নি, জানালেন কর্নেল অলি আহমদ

প্রকাশ:

কয়েক দশক ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এক সময় বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল বিএনপি, তবে পরবর্তীতে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। অন্যদিকে ক্ষোভ ও অভিমানে অলি আহমদও বিএনপি ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তারা দুজনে মিলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। এর আগে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে পৃথক একটি দল গঠন করেছিলেন।

সম্প্রতি সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অলি আহমদ এলডিপি গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি জানান, শেখ রাজ্জাক, বি. চৌধুরী ও তিনি—এই তিনজনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে বিএনপির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তারা পৃথক দল গঠন করবেন। অলি আহমদের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দুর্নীতিবাজদের কারাদণ্ড প্রদান এবং দলের ভেতর থেকে চাঁদাবাজদের বহিষ্কারের দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

অলি আহমদ জানান, তাদের পরিকল্পনার আগেই বি. চৌধুরী বিকল্পধারা গঠন করে ফেলেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়ার মুখে বি. চৌধুরী রেললাইন ধরে পালিয়ে যাওয়ার পর ব্রিগেডিয়ার গিয়াসের মাধ্যমে অলি আহমদকে জরুরি বার্তা পাঠান। অলি আহমদ তখন রাজ্জাক আলী সাহেবকে নিয়ে বি. চৌধুরীর ডিসপেনসারিতে দেখা করতে যান, কারণ বি. চৌধুরী তখন নজরদারিতে ছিলেন। সেই সাক্ষাতেই তারা নতুন দল হিসেবে এলডিপি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে বি. চৌধুরীর সঙ্গে মেজর মান্নান ও অধ্যাপক পাটোয়ারীসহ অন্যরা যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে এলডিপি গঠনের শুরুতেই কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল বলে অলি আহমদ উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তাদের বলা হয়েছিল বি. চৌধুরীর একটি অফিস আছে, কিন্তু পরে দেখা যায় সেটি তার ব্যক্তিগত বাসা ছিল, যা একসময় পুড়ে গিয়েছিল। এছাড়া বি. চৌধুরীর ছেলে মাহি বি. চৌধুরীর প্ররোচনায় বি. চৌধুরী মিডিয়াতে নিজেকে সামনে আনতে চেয়েছিলেন, যা অলি আহমদ মেনে নিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতার সময় বি. চৌধুরীর সঙ্গে তাদের বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দেয়। অলি আহমদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ২৮টি আসন ছাড়লেও বি. চৌধুরী একটি নির্দিষ্ট আসন নিয়ে দর-কষাকষি শুরু করেন। এই আসন নিয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠলে এলডিপির নেতারা বি. চৌধুরীকে দল থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। অলি আহমদ তাকে বলেন, তিনি সম্মানিত ব্যক্তি, তাই তাকে অসম্মানিত করতে চান না। দুর্নীতির অভিযোগে তাকে নিজের দল বিকল্পধারায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন অলি আহমদ।

অলি আহমদ সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ব্রিগেডিয়ার গিয়াস এসে বললেন, বদরুদ্দোজা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। আপনাকে যেতে বলেছেন। আমি বললাম, রাতে ১২টার পর তার ডিসপেনসারিতে যাব। বাসায় নয়, কারণ তিনি তখন আন্ডার ওয়াচ ছিলেন। রাজ্জাক আলী সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলাম।

শেয়ার করুন