পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিকে তুষারধসে প্রাণ হারানো খ্যাতনামা ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল ‘নিমসদাই’ পুরজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, পাহাড়টির প্রায় ৫ হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতায় তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে। একই এলাকায় আরও তিনটি মরদেহ দেখা গেলেও সেগুলোর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পাকিস্তানের আল্পাইন ক্লাব রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে যে, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো একটি জাপানি বেস ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে।
এর আগে শনিবার ৪৩ বছর বয়সী নির্মল পুরজার মৃত্যুর বিষয়টি তার প্রতিষ্ঠান এলিট এক্সপেডিশনস নিশ্চিত করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ব্রড পিকে তুষারধসে পুরজাসহ অন্তত ১০ জন পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে, পুরজার অভিযানে অংশ নেওয়া আরও তিন পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যালরি গেইস, ওমানের নাধিরা আহমেদ আবদুল্লাহ আল হার্থি এবং নেপালের পুর বাহাদুর গুরুং।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এক শোকবার্তায় বলেন, কারাকোরাম পর্বতমালায় বিশ্বরেকর্ডধারী নির্মল পুরজাসহ ছয় নেপালি ও চার বিদেশি পর্বতারোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু দেশকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। তিনি তাদের সাহস ও নিষ্ঠার কথা স্মরণ করে বলেন, তাদের অবদান চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। নির্মল পুরজার বড় ভাই কমল পুরজা এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তার ছোট ভাই এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য পর্বতারোহীরা আর নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা তোমাকে নিয়ে অসীম গর্বিত।’
ব্রিটেনের যুবরাজ প্রিন্স উইলিয়ামও শোক প্রকাশ করে বলেন, নির্মল পুরজা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে গৌরবের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পর বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্বতারোহীতে পরিণত হয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নির্মল পুরজা এবং তার সঙ্গীদের মৃত্যুর খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীতে তার দীর্ঘ দায়িত্ব পালন এবং অসাধারণ পর্বতারোহণের কীর্তির কথা উল্লেখ করেন।
গত বৃহস্পতিবার ৮ হাজার ৪৭ মিটার উঁচু ব্রড পিকে তুষারধসের পর থেকেই নির্মল পুরজার নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক পর্বতারোহী দলটির সদস্যদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছিল। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া শেষ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, শুরুতে তার পরিকল্পনা ছিল শুধু গ্যাশারব্রুম-২ (জি-২) শৃঙ্গে আরোহণের, তবে পরে তিনি ব্রড পিকেও ওঠার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘ব্রড পিক, আমি তোমার কাছে নিরাপদে ওঠা-নামা ছাড়া আর কিছু চাই না। কোনো পর্বতকেই আমি কখনো হালকাভাবে নিই না।’ পর্বতারোহীদের কাছে ব্রড পিক বিশ্বের অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৭ সালে প্রথম সফলভাবে এই শৃঙ্গে আরোহণ করা হয়। এরপর বহু অভিযাত্রী শীর্ষে পৌঁছালেও কয়েক ডজন পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৩ সাল ছিল এই শৃঙ্গের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরগুলোর একটি, যখন অন্তত ছয়জন পর্বতারোহী সেখানে নিহত হয়েছিলেন।





