রাজধানীর নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকার ফুটপাতে দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদাবাজির একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। সায়েন্স ল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, গাউছিয়া, নীলক্ষেত মোড়, নিউমার্কেটের ১ থেকে ৪ নম্বর গেট, নিউমার্কেটের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশ, কাঁচাবাজার, ঢাকা কলেজ পেট্রোলপাম্প এবং বাবুপুরা এলাকা জুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব দোকান থেকে প্রতিদিন দোকানপ্রতি ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ‘ভাড়া’ এবং বিদ্যুৎ বিল বাবদ অতিরিক্ত ৫০ টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২৫ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে।
এসব ফুটপাতে আধিপত্য কার থাকবে, কে টাকা তুলবে এবং সেই টাকা কারা ভাগ করে নেবে—তা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই চাঁদাবাজির সাথে জড়িত। বিভিন্ন পক্ষের ‘লাইনম্যান’রা প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই টাকা আদায় করে। ৫ আগস্টের পর থেকে এই চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ও ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে।
এই আধিপত্য ও চাঁদাবাজির জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই ঘটনায় ১০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, তারা নিজেরা বসে সমস্যার সমাধান করবে বলে জানতে পেরেছেন। তবে নিউমার্কেট থানার ওসি (অপারেশন) খাইরুল বাশার জানান, কেউ থানায় অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।
নিউমার্কেট এলাকার চাঁদাবাজির বিষয়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং এর পেছনে সরকারি দলের লোকজন জড়িত। তিনি বলেন, ফুটপাতে দোকান বসা বন্ধ না হলে এই চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না, আর এক্ষেত্রে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।





