ঢাকার দুই সিটি দখলে এনসিপির দুই তরুণ তুর্কির নির্বাচনী প্রস্তুতি

প্রকাশ:

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (এনসিপি) দুই তরুণ নেতা। নির্বাচনী কৌশল ও আইনগত বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে সোমবার তারা নিজেদের ভোটার এলাকা অদলবদল করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগঙ্গা থেকে তুরাগ পর্যন্ত পুরো ঢাকা শহরে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই এই নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটার ছিলেন। তবে এখন তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন তার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদন করেছে। তিনি বলেন, 'আমি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কাজ করব। কয়েক দিনের মধ্যেই দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব জানানো হবে। আমি মানুষের জন্য কাজ করছি, সাধারণ মানুষের হয়েই লড়ছি।'

অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে স্থানান্তর করেছেন। উল্লেখ্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন, যেখানে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস পেয়েছিলেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। ওই নির্বাচনে ভোটার এলাকা ভিন্ন হওয়ায় নাসীরুদ্দীন নিজের ভোট নিজে দিতে পারেননি।

দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদ উত্তর সিটির এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির হাল ধরবেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই নেতার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে। তরুণ নেতৃত্বের এই দ্বিমুখী লড়াই ঢাকা সিটির নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। ঢাকা-৮ আসনের মধ্যে ডিএসসিসির ৮ থেকে ১৩ এবং ১৯ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ড রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন।

শেয়ার করুন