ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে জোড়া মহিষ প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে পৌর শহরের তারাগন ঐতিহ্যবাহী ফুটবল মাঠে এই খেলার আয়োজন করা হয়। তারাগন ও কালীনগর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। গ্রামীণ ক্রীড়া ঐতিহ্য ধরে রাখা ও স্থানীয় মানুষের বিনোদনের জন্য এই আয়োজন করা হয়। খেলায় তারাগন কালো দল ও কালীনগর লাল দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় তারাগন কালো দল ২-১ গোলে জয়ী হয়।
তারাগন এলাকার বাসিন্দা আলহাজ মো. হেবজু মিয়ার সভাপতিত্বে খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল টি কোম্পানির সাবেক মহাব্যবস্থাপক কাজী এমদাদুল হক (মিঠু)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ ফারুকুল ইসলাম, আলহাজ সিরাজুল ইসলাম মক্কী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. বাহার মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য মো. লাল মিয়া, সমাজসেবক কাজী রফিকুল ইসলাম স্বপন, মো. অহিদ মিয়া, মো. দুলাল ভূঁইয়া, মো. শেরআলী মিয়া, মো. কামাল খাঁ, মো. নাহিদুল ইসলাম, মো. রাসেল ভূঁইয়া, বেলায়েত হোসেন নয়ন, মো. আলাউদ্দিন ও সৈয়দ সায়েম শাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
খেলা দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক দর্শক মাঠে আসেন। খেলা শুরুর পর দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। আয়োজকেরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ ধরে রাখতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা স্থানীয় খেলাধুলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন প্রয়োজন। খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠের আশপাশে অস্থায়ী বিভিন্ন দোকান বসে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র দোকানিরাও এ সময় ব্যস্ত সময় পার করেন। এতে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। স্থানীয় দর্শকেরা বলেন, জোড়া মহিষ ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি গ্রামীণ মানুষের আনন্দ-বিনোদন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি আয়োজন। এ ধরনের খেলা নিয়মিত আয়োজন করা হলে স্থানীয় ক্রীড়াচর্চা আরও প্রাণবন্ত হবে এবং তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতেও ঐতিহ্যবাহী এ ধরনের খেলাধুলার আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ ক্রীড়া সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।





