মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর আনুগত্য যাচাই করছে বলে একটি ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে এসেছে। ব্লুমবার্গ নিউজের পর্যালোচনায় আসা এই নথিতে দেখা গেছে, মিত্র দেশগুলোকে সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা সুরক্ষা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে কতটা সমর্থন করে, তা যাচাই করা হচ্ছে।
ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে প্রতিটি ন্যাটো সদস্য দেশের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তারা ন্যাটোর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক অভিযানে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে কি না। এছাড়া মিত্র দেশগুলো তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কি না এবং ভবিষ্যতে এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে তারা রাজি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মিত্র দেশগুলো এই উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে এবং তাদের মতে, মার্কিন সুরক্ষার বিনিময়ে দেশগুলোকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশ্নপত্রের একটি অংশে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মিত্রদের মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে 'শক্ত, স্পষ্ট এবং নীরব' থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ন্যাটোর অনুমোদন ছাড়াই ইরানে হামলা চালানোর পর স্পেনসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের জন্য সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, যা এখন সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটকের মার্কিন অভিযানের ক্ষেত্রেও, যা ইউরোপে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা খাতের বিষয়েও মিত্রদের অবস্থান জানতে চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশ্নপত্রে জানতে চাওয়া হয়েছে, মিত্র দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কি না অথবা ইউরোপে তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার নীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছে কি না। কোনো দেশ বিরোধিতা না করে থাকলে তারা ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে মার্কিন অবস্থানের পক্ষে থাকবে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নগুলো নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ছয় মাসের পর্যালোচনার মধ্যেই এই নথি ফাঁস হলো, যা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার এবং পোল্যান্ডে সমসংখ্যক সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে অবশ্য ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির এই পর্যালোচনার বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন এবং একে ন্যাটোর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেছেন।





