প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ আগমন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত প্রায় ২০ বছরের পুরোনো ময়লার ভাগাড় বালুচাপা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের আশপাশে জমে থাকা ময়লা অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সফর করবেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে জেলার পাকুন্দিয়ায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং কটিয়াদীতে কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। এছাড়া তিনি ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং বিকেলে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার খিলপাড়া এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় দুই দশক ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ শহরসহ কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলার কিছু অংশের ময়লা এবং বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য এখানে ফেলা হয়। উন্মুক্ত বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ভৈরবগামী হাজারো যাত্রী ও যানবাহন চরম দুর্ভোগের শিকার হতো। বৃষ্টির পানিতে ময়লা পচে সড়কে ছড়িয়ে পড়লে এই দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেত। প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে ১০ কোটি টাকার একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও লোকবলসংকটে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এবং মানববন্ধনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে ময়লার কিছু অংশ সরিয়ে বালুচাপা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। একই ধরনের উদ্যোগ কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়ও নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নজর এড়াতে তড়িঘড়ি করে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তিনি চলে গেলে এলাকাটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে খিলপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ময়লার স্তূপের ওপর থেকে কিছু অংশ সরিয়ে বালুচাপা দেওয়া হয়েছে, ফলে এলাকাটি এখন পরিচ্ছন্ন দেখাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, আগে দুর্গন্ধের কারণে নাক চেপে চলতে হতো, এখন সাময়িকভাবে স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া গেলেও তারা স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যত্রতত্র ময়লা না ফেলতে মাইকিং করে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশের এই ময়লা ফেলার স্থানটি আপাতত অস্থায়ীভাবে বালুচাপা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে এবং স্থায়ী বর্জ্য নিরসনের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে চালু হতে পারে।





