যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাওয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার প্রফেসরপাড়া এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেলে জেলা জামায়াত প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের ঈদগাহ ময়দান থেকে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দড়াটানা ভৈরব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং তাকে ও তার পরিবারকে সারাদিন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, প্রশাসন আগে থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বুধবার তার কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে সকালে সংসদ সদস্যের বাড়ির বিপরীতে অবস্থিত আল-মাদ্রাসাতুল শারইয়্যাহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যা কয়েকজন শিশুকে মারধর করেন। এরপর শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রেকসোনা বেগম নামে এক নারী অভিভাবকের মাথায় তালা দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা সংসদ সদস্যের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এবং সড়কে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান যশোরের পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মাদ্রাসায় শিশুদের যাতায়াত এবং সংকীর্ণ রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এটি বড় কোনো ইস্যু নয় বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক এবং বাড়ির মালিকদের নিয়ে বুধবার আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করা হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল দাবি করেন, মাদ্রাসার সামনে রাস্তা খোলা রাখার বিষয়ে কথা বলতে গেলে কিছু অভিভাবক তাকে ঘিরে ধরেন। পরে তার মেয়ে ও স্ত্রীকে মারধর করা হয় এবং তাদের উদ্ধার করে বাসায় নেওয়ার পর একদল লোক বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। তিনি আরও জানান, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও অগ্ন্যাশয়ের জটিল রোগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বাড়ির গ্যারেজে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন লাগানোর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানান এবং কোনো ভুল করে থাকলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্থানীয়দের বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় জেলা জামায়াত প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে। এদিকে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বুধবার বৈঠকের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে।





