তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনার বিষয়ে যেকোনো অস্পষ্টতা এড়াতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হওয়ার সুযোগ নেই।
বাঘাই ব্যাখ্যা করেন, বর্তমানে যে আলোচনাটি চলছে তা কেবল ইরান ও ওমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। তেহরান মাস্কাটের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য কাজ করছে, যা এই কৌশলগত জলপথে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই আলোচনা দুটি উপকূলবর্তী রাষ্ট্রের মধ্যে কঠোরভাবে দ্বিপাক্ষিক এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষ নেই। তিনি জানান, গত সপ্তাহ ধরে ওমানের সাথে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা চলছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা রোধ ও ইরানের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সমকক্ষদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন।
হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অচলাবস্থার জন্য বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন আগ্রাসনের ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন নৌ অবরোধ এবং ওয়াশিংটনের বৈরী কার্যকলাপ ও লঙ্ঘন অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ প্রণালীটির স্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আশা করা উচিত নয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চীন মধ্যস্থতা করছে বলে প্রকাশিত খবরগুলো সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাঘাই জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটন সম্পর্কিত বিষয়ে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছে এবং কাতারও একটি সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং বেইজিংও আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি নিয়ে তেহরানের উদ্বেগের সঙ্গে একমত। চীনা কর্মকর্তারা পরিস্থিতি খারাপ হওয়া ঠেকাতে তাদের ভূমিকা ব্যবহার করছেন, তবে চীন নতুন মধ্যস্থতাকারী নয়। এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তানি ও কাতারি প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা-ও সঠিক নয়।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, সামরিক জোটের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি শান্তির জন্য একটি জোট গঠনের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, ইরান অন্য কোনো দেশে হামলা করে না; তাদের সামরিক পদক্ষেপগুলো আত্মরক্ষামূলক, যা শুধুমাত্র সেইসব ঘাঁটির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় যেগুলো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তিনি আঞ্চলিক সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখে।
দেশের অভ্যন্তরীণ সমালোচনা প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, যুদ্ধকালীন বা অন্য কোনো সময়ে কূটনৈতিক মহল ব্যক্তিগত মতামত সামনে আনে না, বরং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকেই প্রাধান্য দেয়। তিনি বলেন, সকল দল ও গোষ্ঠীকে সম্মান করা হয় এবং কূটনৈতিক মহল কোনো রাজনৈতিক স্রোতের প্রভাবে কাজ করে না।





