বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকায় এসেছেন ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈন। চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি রোববার ঢাকায় পৌঁছান। ডিরেক্টর জেনারেল, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স জেনারেলের (ডিজিএফআই) আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।
সফরের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট বেলা ২টা ৫৬ মিনিটে ভারতের নয়াদিল্লি থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭ ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পরাগ জৈন ও তার প্রতিনিধিদল। ডিজিএফআইয়ের ব্যবস্থাপনায় তারা ঢাকার র্যাডিসন ব্লু হোটেলে অবস্থান করেন। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন অশ্বিন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি ও শৈবল রায় চৌধুরী।
পরদিন ১০ আগস্ট বেলা ১১টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের ৬/এ নম্বর বাসভবনে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামসুল ইসলামের সাথে বৈঠক করেন পরাগ জৈন। বৈঠকের পর বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে প্রতিনিধিদলটি এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৮ ফ্লাইটে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। যদিও বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভাষ্যমতে, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, হাইকমিশনার ত্রিবেদী বাংলাদেশের সাথে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী কাজ করার ভারতের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পরাগ জৈনের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ২০২৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে মার্চ মাসে ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী দিল্লি সফরে গিয়ে পরাগ জৈনের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
২০২৫ সালের ১ জুলাই দায়িত্ব নেওয়া পরাগ জৈন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কর্মকর্তার ঢাকা সফরকে সাধারণ প্রশাসনিক সফর হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এদিকে, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীর হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ এবং তার ইতিবাচক মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





