টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশ:

দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালত আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে।

এর আগে, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন একটি রিট দায়ের করেছিলেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য যে, গত রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। জরিপে দেশের বিভিন্ন এলাকার দুই হাজার ৭৬০ জন অংশ নেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে, যেখানে বাকি ৮টি নমুনা মুক্ত পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই এই কণা পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

পরীক্ষিত পণ্যগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, কোনো টুথপেস্টের মোড়কেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

দেশে তৈরি ও আমদানি করা উভয় ধরনের টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। বাকি ২টি নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন