ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন—এমন উদ্বেগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, 'ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন, আর আমরা তার মূল্য দিচ্ছি।' ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই ওয়াশিংটনের প্রতি এই ক্ষোভ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
আরব ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাসের সংঘাত এবং ইরান ও তার মদদপুষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচকে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কিছু উপসাগরীয় রাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রাখার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
তবে এই অঞ্চলের একজন পশ্চিমা কূটনীতিক সতর্ক করে বলেছেন যে, এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মনোভাবের কোনো মৌলিক পরিবর্তন নির্দেশ করে না। তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আগেও দেশগুলো মার্কিন বাহিনীকে খুব একটা উৎসাহের সঙ্গে স্বাগত জানায়নি। কূটনীতিকের ভাষায়, 'এটা ছিল অনেকটা এক প্রয়োজনীয় মন্দ বিষয়। আর এখন এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।'
এই অস্বস্তির কারণ হিসেবে কূটনৈতিক আলোচনার ব্যর্থতাকে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন এবং আলোচনার অগ্রগতির কথা বলেছেন, আবার অন্যদিকে সেসব অবস্থান থেকে সরেও এসেছেন। অথচ ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনও সংঘাত অবসানে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন যে, সংঘাত শুরুর পর থেকেই ওয়াশিংটন নিয়মিত আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় অংশীদারদের সম্পর্ক অসাধারণ। উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংঘাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিলেও, কোনো স্পষ্ট সমাধান ছাড়াই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও, এই দেশগুলো সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং গোয়েন্দা তথ্যের জন্য ওয়াশিংটনের ওপরই নির্ভরশীল।
এদিকে, গত তিন মাস ধরে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌপথ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, স্বাভাবিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল এবং পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মার্কিন সামরিক কার্যকলাপ বন্ধের ওপর নির্ভরশীল।





