প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক ম্যান্ডেটকে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং দৃশ্যমান জনকল্যাণে রূপান্তর করা। এই লক্ষ্য অর্জনে অদক্ষতা সহ্য করার সংস্কৃতি বন্ধ করে দুর্বল মন্ত্রণালয়গুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক স্থবিরতা ভেঙে রাষ্ট্রযন্ত্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে, সভার চেয়ে ফল, ফাইলের চেয়ে বাস্তবায়ন এবং ব্যাখ্যার চেয়ে জবাবদিহিতা বেশি জরুরি। কারণ, একটি সরকারের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, বরং জনগণের আশা ও বিশ্বাস, যা একবার ভেঙে গেলে পুনর্গঠন করা কঠিন।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছয় মাস পূর্ণ করেছে। দায়িত্ব নেয়ার সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মতো কঠিন পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেলেও, ছয় মাস পর এখন আর তা অগ্রগতির অভাবের স্থায়ী অজুহাত হতে পারে না। সরকার প্রথম ১৮০ দিনের জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ এবং দুর্নীতির মতো বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। যদিও সামাজিক সুরক্ষা এবং কিছু কর হ্রাসের মতো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের হিসাবই সুশাসনের চূড়ান্ত পরিমাপক নয়। সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনীতির সূচক জিডিপি নয়, বরং রান্নাঘরের বাজারদর। নিত্যপণ্যের মূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বাজার গোয়েন্দা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা দূর করা এখন সময়ের দাবি।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সরকারের সক্ষমতার বড় পরীক্ষা। বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি এবং দ্রব্যমূল্য বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়, বরং একই অর্থনৈতিক শৃঙ্খলের অংশ। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো এবং অদক্ষতা কমিয়ে সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার দিকে সরকারকে যেতে হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে জনগণের উদ্বেগ রয়েছে। অপরাধ দমনে রাষ্ট্রকে আইনের মধ্যে থেকে কঠোর হতে হবে এবং পুলিশকে রাজনৈতিক হয়রানি বা ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে মুক্ত রেখে জনবান্ধব ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট তিন ও পাঁচ বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বর্তমান আমলাতান্ত্রিক জড়তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকি এড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে কঠোর হতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের আগামী ছয় ও ১২ মাসের জন্য সময়বদ্ধ লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। ব্যর্থতার পরিণতি না থাকলে জবাবদিহির অর্থ থাকে না। আগামী ছয় মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে না পারলে নাগরিকদের হতাশা রাজনৈতিক অনাস্থায় রূপ নিতে পারে। তাই সরকারের উচিত হবে শত শত অগ্রাধিকারের পরিবর্তে নিত্যপণ্য, জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা এবং কর্মসংস্থানের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সর্বোচ্চ শক্তি কেন্দ্রীভূত করা।





