মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার ৩ আগস্ট এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
এদিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৪ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তিনি জানান, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প আরও জানান, একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে সমাধানের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল এবং ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা দেখা দিলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন, যার ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব কমেছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মজিদ ইবনে আল-রেজা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।





