আগামী শনিবার মিয়ামিতে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেমিফাইনালে পরাজিত দুই দল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ফুটবলের এই দুই পরাশক্তি এখন টুর্নামেন্ট থেকে বিষণ্ন বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেমিফাইনালে হারের ক্ষত নিয়েই তারা ফ্লোরিডায় পৌঁছেছে, যেখানে অনেকের মতে তাদের এই ব্যর্থতার পেছনে নিজেদের ভুলের দায়ই বেশি ছিল।
টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের সামনে পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিল এবং ২-০ গোলে পরাজিত হয়। অন্যদিকে, আটলান্টায় গত বুধবার ইংল্যান্ড ২-১ গোলে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। এমন একটি ম্যাচ, যা সাধারণত কোনো দলই খেলতে চায় না, তার জন্য এখন মানসিক ও শারীরিক শক্তি জড়ো করতে হচ্ছে উভয় দলকে।
ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টাচেল জানান, কেউই এই ম্যাচটি খেলতে আগ্রহী নয়, কারণ সবাই ফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্টে এসেছিল। টাচেল আরও বলেন, ফ্রান্সের তুলনায় তাদের বিশ্রামের জন্য একদিন কম সময় মিলেছে, তবুও তারা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে ম্যাচটি খেলবেন। অন্যদিকে, এই ম্যাচটি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের একটি বিষণ্ন পরিসমাপ্তি হতে যাচ্ছে। ১৪ বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদ ছাড়ছেন। দেশ্যম বলেন, তারা যেখানে থাকতে চেয়েছিলেন সেখানে না থাকলেও, তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগটি কাজে লাগাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
এই ম্যাচের বড় আকর্ষণ হতে পারে গোল্ডেন বুট লড়াই। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি দুজনেই আটটি করে গোল করেছেন, যার ফলে ইংলিশ রক্ষণভাগের বিপক্ষে এমবাপ্পে গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজবেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহামের গোলসংখ্যা ছয়টি করে। হ্যারি কেনের জন্য এটি বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচ হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তিনি নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি। পাশাপাশি এমবাপ্পের সামনে সুযোগ রয়েছে মেসির ২১ গোলের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছানোর, যার বর্তমান গোল সংখ্যা ২০।
খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তির কারণে টাচেল একাদশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোবি মাইনুর অভিষেক হতে পারে এবং অলি ওয়াটকিন্স শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যম ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এন’গোলো কান্তেকে মাঠে নামানোর কথা ভাবছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলমান এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত এক মিনিটও খেলার সুযোগ পাননি।
৫৭ বছর বয়সী দেশ্যম ১৪ বছরের সফল কোচিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন। তার অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল এবং এবারো শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেনের জন্য এটি হয়তো বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচও হতে পারে। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার চলতি মাসেই ৩৩ বছরে পা রাখবেন। ফলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।





