৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের নীতি দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ:

দেশে বর্তমানে যে তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দৃশ্যমান, তার জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আত্মঘাতী নীতি ও অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, পূর্ববর্তী সরকার দলীয় ব্যবসায়ী বন্ধুদের স্বার্থরক্ষায় বিদেশ নির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছিল এবং দেশীয় অনুসন্ধানে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংকট মূলত বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনারই ফল।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গালফ ওয়ারের মতো আন্তর্জাতিক সংকটে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়। এরপরও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থে বোরো মৌসুমে সেচ কাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। পরবর্তীতে সীমান্ত এলাকায় পাচার রোধ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে দাম সহনীয় মাত্রায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মাতারবাড়িতে চীনের সাথে ‘জি টু জি’ চুক্তির অধীনে ১৮ মাসের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ল্যান্ড বেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার জন্য শত কিলোমিটারের অ্যাডভান্সড পাইপলাইন নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়ার কয়লা ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াটের নতুন কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির কাজ দ্রুত শুরু করতে আলোচনা চলছে।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই অফশোর ও অনশোর সব জায়গায় কূপ খনন জোরদার করেছে। ভোলার গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ সচল করা হয়েছে এবং সেখানে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ফার্টিলাইজার ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এলপিজির চাহিদা মেটাতে মাতারবাড়িতে টার্মিনাল ও স্টোরেজ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাত্র ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনের যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা কার্যকর হতে শুরু করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে একটি টেকসই খাত গড়ে তোলা।

শেয়ার করুন