একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি: খালি থাকবে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন

প্রকাশ:

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম আগের মতোই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান ভর্তি সংক্রান্ত এই তথ্যগুলো তুলে ধরেন।

অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান স্পষ্ট করেছেন যে, ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ, কোনো লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না; বরং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জিপিএ এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ হবে। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে এই অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই পদ্ধতিতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এরপর শিক্ষার্থীর ফলাফল, কোটা এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় নিয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

তবে এবারের ভর্তি কার্যক্রমে অর্ধেকেরও বেশি আসন খালি থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বোর্ড চেয়ারম্যানের তথ্যমতে, সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গত বছর মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল, যার অর্থ ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন খালি ছিল। এ বছর পাসের হার আরও কমে যাওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা গতবারের তুলনায় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই হিসাব বলছে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানসহ সব বোর্ডের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলেও প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে। উল্লেখ্য, ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া অবশ্য পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উপলক্ষে আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি–সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান।.এসএসসি ও সমমানে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬, এগিয়ে ছাত্রীরা.সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, ভর্তি কার্যক্রম আগের মতোই।

সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা চালু হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা ছিল।.১৩ লাখ ৬১ হাজারের মতো আসন খালি থাকবেসৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালে যত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল তাদের তুলনায় ২০২৬ সালে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা কিছু বেশি শূন্য থাকবে।

শেয়ার করুন