ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে নতুন করে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার গ্রিনীচ মান সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। জার্মানির জিওসায়েন্স রিসার্চ সেন্টার (জিএফজেড) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় ভোরের কিছুক্ষণ আগে ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। দুর্গম নাজেওকো রিজেন্সিতে উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ভূমিধসের কারণে সড়ক পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
শনিবারের বড় ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপে ২৩০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে ১৫৭টি বাড়ি গুরুতরভাবে, ৪১টি মাঝারিভাবে এবং ১৪৮টি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৭টি স্কুল, ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পাঁচটি উপাসনালয় এবং ছয়টি সরকারি-বেসরকারি অফিস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার নতুন ভূমিকম্পের পরেও ফ্লোরেসে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।





