পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পাঁচজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে তীব্র প্রতিযোগিতা, লবিং এবং পালটাপালটি অভিযোগের ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে ২৬ জন ডিআইজির আমলনামা বা এসিআর ও সার্ভিস রেকর্ড যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পদোন্নতির দৌড়ে থাকা কর্মকর্তাদের অধিকাংশই বিসিএস ১৫ ও ১৭ ব্যাচের। এর মধ্যে ৯ জন ১৫ ব্যাচের এবং ১৭ জন ১৭ ব্যাচের কর্মকর্তা রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ও দলবাজ ডিআইজি তাদের যোগ্য ও পেশাদার সহকর্মীদের পদোন্নতি ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই উদ্দেশ্যে তারা প্রায় তিন দশক আগের একটি গাছ কাটার বিতর্কিত ঘটনাকে সামনে নিয়ে এসেছেন।
বিতর্কিত এই ঘটনাটি ১৯৯৩ সালের ৮ জুনের। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুলিশ সদর দপ্তরের মূল ভবনের সামনে একটি ‘ক্রিসমাস ট্রি’ রোপণ করেছিলেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর সময় সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে সেই গাছটি কেটে সেখানে পানির ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়। তখন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মো. মোখলেসুর রহমান। বর্তমানে পদোন্নতিপ্রত্যাশী অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই গাছ কাটার দায় চাপানোর অপচেষ্টা চলছে, যদিও তাদের অনেকেই ওই সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না।
সে সময় দায়িত্বরত কয়েকজন মালী জানিয়েছেন, গাছটি রাতের আঁধারে কাটা হয়েছিল এবং কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তারা শুনেছিলেন যে তৎকালীন আইজিপির নির্দেশে গাছটি কাটা হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক কর্মকর্তার মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তারা বারবার পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন। এখন রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের পর নতুন করে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে তাদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম এ বিষয়ে বলেন, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মকর্তা আখ্যা দিয়ে পদোন্নতি ঠেকানোর যে কালচার আওয়ামী লীগ আমলে শুরু হয়েছিল, তা যেন আর ফিরে না আসে। তিনি পেশাদারিত্ব ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতিরিক্ত আইজিপির মাত্র ৫টি পদের বিপরীতে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে কেউ কেউ নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন, আবার কেউ প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। সাবেক আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।





