শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ৪০৪ শিক্ষকের তৎপরতা, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ঢাবি উপাচার্যের

প্রকাশ:

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। শনিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। উপাচার্য বলেন, গত তিনদিন আগে আমরা দেখেছি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটি প্রতিহিংসা নয়, বরং অপরাধ করলে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

উপাচার্য প্রশ্ন রাখেন, কেন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে তারা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন। তিনি বলেন, যদি কেউ রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের মাধ্যমে তার বিচার করবেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষকদের ওপর নজরদারি ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সাদা দলের সভায় আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকরা নজরদারি চালাত। ফলে শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতেন না এবং তাদের তালিকা করে ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হতো।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে উপাচার্য বলেন, শুরুতে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, যেখানে শিক্ষকরা নৈতিক সমর্থন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আন্দোলনের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি পেলে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার সঙ্গে ২০২৪ সালের সরকারপ্রধানের নির্যাতনের তুলনা করে তিনি বলেন, দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও আমাদের নতুন বাংলাদেশের পতাকা ও স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় নিতে হবে।

বর্তমান সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ১৭ বছরের অনিয়ম মাত্র পাঁচ মাসে সমাধান করা সম্ভব নয়। নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের দমন-পীড়ন বা স্বৈরাচার আর জায়গা পাবে না। তিনি বলেন, গুম, খুন ও মামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। শহীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন