চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদের আয়োজনে পাঁচ শতাধিক নারী শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় হলের ডাইনিং কক্ষে এই মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। হল সংসদের ভিপি সুমাইয়া নুসরাত ও জিএস নাজিফা তাসফিয়াহর নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের সহযোগিতায় এই সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার বিষয়ে পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রদান করেন। এই চিকিৎসক দলে ছিলেন একজন করে নিউট্রিশনিস্ট, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও গাইনোকোলজিস্ট এবং দুজন ডার্মাটোলজিস্টসহ মোট ৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা, চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হলের প্রভোস্ট ও সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মিঝি। এছাড়াও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের পরিচালক ও টিকিউএম ডা. জান্নাতুন নাইম হক, আরএমও ডা. শাফায়াত, ডিজিএম ও কো-অর্ডিনেটর মো. আমান উল্লাহ, চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবিব এবং সহ-ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মিঝি হল সংসদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, হল সংসদ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিয়মিত কাজ করছে। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ডা. জান্নাতুন নাইম হক বলেন, পড়াশোনার চাপে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি অনেক সময় অবহেলা করেন, তাই এই ক্যাম্প তাদের জন্য সহায়ক হবে।
চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবিব বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও হল সংসদ শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। হল সংসদের ভিপি সুমাইয়া নুসরাত জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রতি মাসে এমন আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জিএস নাজিফা তাসফিয়াহ বলেন, অনেক শিক্ষার্থী সংকোচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়নে হলের প্রাক্তন ছাত্রীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।





