বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বিদায়ের পর চরম নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছেন দলের উইঙ্গার হামিন্তন কাম্পাস। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার পর থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, কাম্পাসের এই ঘটনাটি সেই দুঃসহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে কাম্পাস দলের সাথে বোগোতাগামী বিমানে ওঠেননি। বর্তমানে তার অবস্থান সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে কোনো খেলোয়াড় বা তার পরিবারের সদস্যদের এমন হুমকির মুখে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফেডারেশন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন কাম্পাস। তিনি লিখেছেন, শৈশব থেকেই কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতেন এবং দেশের জন্য গোল করার প্রত্যাশা ছিল তার। দেশবাসীকে আনন্দ দিতে না পারায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবে সেই সাথে জানিয়েছেন, এই জার্সির প্রতি তার ভালোবাসা ও নিবেদন অটুট। দেশের জন্য আবারো হাজারবার মাঠে নামতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন এই ফুটবলার।
উল্লেখ্য যে, এই বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার হয়ে একটি গোল করেছিলেন কাম্পাস। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তার সেই গোলটি দলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ ষোলোর সেই একটি মিস করা সুযোগ এখন তার জীবনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।



