আজ রাতে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে মাঠে নামার সময় খেলোয়াড়দের হাতে কালো আর্মব্যান্ড দেখা যাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার জেইডেন অ্যাডামসের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে, যিনি চলতি বিশ্বকাপেই খেলেছিলেন।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত বোকা জুনিয়র্স ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক মিডফিল্ডার আন্তোনিও রাত্তিনের স্মরণে ফিফার কাছে এই আবেদন জানানো হয়। শনিবার ৮৯ বছর বয়সে রাত্তিন মৃত্যুবরণ করেন।
‘রাতা’ নামে পরিচিত আন্তোনিও রাত্তিন তার পুরো ক্যারিয়ারে কেবল বোকা জুনিয়র্সের জার্সিই পরেছেন। ১৯ বছর বয়সে ক্লাবের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার ১৫ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে ৩৮২টি ম্যাচ খেলেছেন এবং প্রতিটিতেই ছিলেন মূল একাদশে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালের লিগ শিরোপা এবং ১৯৬৯ সালের কোপা আর্জেন্টিনাসহ মোট চারটি শিরোপা জয় করেন।
জাতীয় দলের জার্সিতে রাত্তিন ১৯৬২ সালের চিলি ও ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নেন। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে এক ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম হয়। সে সময় লাল বা হলুদ কার্ডের প্রচলন না থাকায়, রাত্তিন মাঠ ছাড়ার আদেশে প্রতিবাদ জানান এবং দোভাষীর মাধ্যমে রেফারির সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে চান। প্রায় ১০ মিনিট মাঠেই অবস্থান করা রাত্তিন মাঠ ছাড়ার সময় কর্নার পতাকাটি দুমড়ে-মুচড়ে ফেলেছিলেন, যাতে ব্রিটিশ পতাকার নকশা ছিল। এটি তার বিদ্রোহী ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন ছিল।
রাত্তিনের এই ঘটনার পরই ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা প্রথম কার্যকর হয় ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলা রাত্তিন মোট ২১টি ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ৫টি বিশ্বকাপে ও ৩টি কোপা আমেরিকায়। জাতীয় দলের হয়ে তার নামের পাশে একটি গোলও রয়েছে।



