জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুই বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার পথে রয়েছে সংগঠনটি। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের যাচাই-বাছাই শেষে যেকোনো সময় এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। পুরো বিষয়টি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে তত্ত্বাবধান করছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। এই বৈঠকটি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে বিদায়ী সাক্ষাতের অংশ ছিল। সেখানে নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয় এবং বর্তমান নেতাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য পরবর্তী নেতৃত্বের বিষয়েও তারেক রহমান নাম সংগ্রহ করেছেন।
এবারের কমিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অতীতের মতো কোনো ‘সিন্ডিকেট’ বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এবার নেতৃত্ব বাছাই করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১ মার্চ সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই দায়িত্ব পালন করছে। ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর।
নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে কার ভূমিকা কেমন ছিল, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কে সক্রিয় ছিলেন এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে কার ভূমিকা কেমন ছিল—তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাজীবন, একাডেমিক ফলাফল, পারিবারিক পরিচয় ও সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা, সারা দেশে যোগাযোগ এবং ভালো কথা বলতে পারাটাও নেতৃত্ব নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গঠনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি নিয়েও আলোচনা চলছে।
ছাত্রদলের ইতিহাসে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সবসময় একরকম ছিল না। ১৯৯২ সালে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে রুহুল কবির রিজভী সভাপতি এবং এম ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২৭ বছর পর ২০১৯ সালে আবার সরাসরি ভোট হয়। সেই নির্বাচনে ১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৩৪ কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮১ জন ভোট দেন। তাতে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তবে ২০১৯ সালের নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়ও অঞ্চলভিত্তিক প্রভাব এবং সাবেক নেতাদের তৎপরতার অভিযোগ সামনে এসেছিল। এবার অবশ্য কাউন্সিল বা সরাসরি ভোটের কোনো প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্তত ১৫ জন নেতার নাম শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির এ বি এম ইজাজুল কবির (রুয়েল), সহসভাপতি মনজুরুল আলম (রিয়াদ), সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (জিসান), ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদ আলোচনায় আছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার (অনিক), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন (শাওন) ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের নামও শোনা যাচ্ছে। এর বাইরে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খোরশেদ আলম (সোহেল), এইচ এম আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম (তারিক), ফারুক আহমেদ, শরীফ প্রধান (শুভ), মো. সোহেল রানা এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ (প্রিন্স)-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বের জন্য সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া (ইমন), বিজয় একাত্তর হল শাখার আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী (মায়েদ), কবি জসীমউদ্দীন হল শাখার আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী (হামিম), বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান (বিজয়), বি এম কাউসার ও মো. আল আমীন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াৎ মো. জুলফিকার জিসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নাম সামনে আসছে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার সক্ষমতা যাদের আছে, তারাই নতুন কমিটিতে এগিয়ে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র বলছে, তারেক রহমান নিজেই চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করছেন যাতে কোনো বিতর্কিত বা পরিচয় গোপনকারী কেউ নেতৃত্বে আসতে না পারেন। শিগগিরই প্রথমে পাঁচ সদস্যের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হতে পারে।





