১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের কাজে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী: গোলাম পরওয়ার

প্রকাশ:

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার চিত্রই বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গণভোটের রায় সরকার কার্যকর না করে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জাতি ও বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা জানান, এই সংকটের কারণে দেশের উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছেন। বিরোধী দল সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলেও সরকার তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

শিক্ষা ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগের ফলে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফিরছে না, বরং নৈরাজ্য বাড়ছে এবং ছাত্রদল সহিংস হয়ে উঠছে। সরকারি চাকরিতে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কেই প্রধান যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ অর্থনীতির বড় সংকট। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ বর্তমানে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি সংবিধানবিরোধী। এছাড়া বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া এবং তাদের বরাদ্দ না দিয়ে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী এমপিদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া সংবিধানের লঙ্ঘন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জনপ্রশাসন নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের মতাদর্শের বাইরের সৎ কর্মকর্তাদের ওএসডি বা বদলি করা হচ্ছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতাকে তিনি সরকারের কৃতিত্ব হিসেবে মানতে নারাজ; বরং প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকেই এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জামায়াতের ছয় নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং বিরোধী দলীয় এমপিদের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা রাজনীতিতে সংঘাত চাই না এবং দেশকে শান্তির দিকে নিতে চাই। সরকারকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে হরতাল বা জ্বালাও-পোড়াওয়ের পথে না যাওয়ার কথাও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন