বাকৃবির চার হলের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা

প্রকাশ:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. মনজুর হোসেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ও ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এর এক সপ্তাহ পর ১ আগস্ট রাতে মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় ২ আগস্ট রাতে চারটি হলের শিক্ষার্থীরা পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. মনজুর হোসেন জানান, প্রতিবেদনে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, জড়িতদের নাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৯ আগস্ট ৪২ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম জানান, শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে তাদের জবাব জমা দিয়েছেন। বর্তমানে সেই জবাবগুলো তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সাথে মিলিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, একাডেমিক শাস্তি কিংবা আবাসিক হলে থাকার অধিকার বাতিলের মতো বিধিসম্মত ও ন্যায্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

শেয়ার করুন