আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রাখাইন: বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি

প্রকাশ:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি বড় অংশ সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গত দুই বছরে নতুন মোড় নিয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সীমান্তজুড়ে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একটি বিস্তৃত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরাকান আর্মি কেবল একটি বিদ্রোহী সংগঠন নয়, বরং এটি ধীরে ধীরে একটি আন্তর্জাতিক মাদক-নির্ভর অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন ইয়াবার অন্যতম বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটি সীমান্ত, সমুদ্রপথ ও পাহাড়ি অঞ্চল ব্যবহার করে একটি সুসংগঠিত সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত এসব দাবির কিছু অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়াও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়াবা জব্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চার কোটি ৩৫ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ বেশি। উদ্ধার হওয়া এই চালানগুলো মোট প্রবাহের খুবই সামান্য অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও মাদকবিরোধী সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রপথে ইয়াবা পাচার বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করে আসছে এবং সমুদ্রপথ এখন পাচারের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আরাকান আর্মি শুরুতে নিজেদের রাখাইন জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও সামরিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অংশ হিসেবে পরিচয় দিত। কিন্তু ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করলে সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীকালে ২০২৩ সালে ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’-এর অভিযানের পর রাখাইনের বিশাল এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি সীমান্ত, বন্দর ও বিভিন্ন বাণিজ্যপথের ওপরও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

শেয়ার করুন