গাজীপুরের কালীগঞ্জে একই দিনে উপজেলা প্রশাসনের একটি সময়োপযোগী অভিযানে দুই কিশোরীর জীবনের মোড় ঘুরে গেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের পুনসহি গ্রাম এবং বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রশাসন বাল্যবিয়ে দুটি বন্ধ করে দেয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে কিশোরীদের বয়স যাচাই করে বাল্যবিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। পরে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয় যে, সংশ্লিষ্ট কিশোরীদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো অবস্থাতেই তাদের বিয়ে দেওয়া হবে না।
স্থানীয়রা জানান, বিয়ে দুটিকে কেন্দ্র করে গ্রামের শত শত মানুষকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া শুরু করেছিলেন। তবে প্রশাসনের অভিযানের কারণে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়নি এবং অতিথিদের ফিরে যেতে হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের আহসান হাবীব সাজু, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা লিটন আহমেদ, কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম শেখ এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) স্বপন কুমারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে উপজেলা প্রশাসন সবসময় জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। কোনো কিশোরীকে আইন নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে শুধু দুটি বিয়েই বন্ধ হয়নি, বরং দুই কিশোরীর শিক্ষা, স্বপ্ন ও নিরাপদ ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও রক্ষা পেয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অভিযান বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।





