কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের বিভিন্ন এলাকায় জরাজীর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ঝুলন্ত তার জনমনে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব খুঁটির নিচের অংশ জং ধরে ক্ষয়ে যাওয়ায় অনেকগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও খুঁটি একপাশে হেলে পড়লেও তা সংস্কার বা প্রতিস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক খুঁটি এখন আর নিজস্ব কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নেই, বরং বৈদ্যুতিক তারের টানে কোনোমতে টিকে আছে।
শহরের শাহী মসজিদ এলাকা, বাসস্টেশন এবং কালিপুরসহ বিভিন্ন ব্যস্ত পয়েন্টে সরজমিনে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। এসব খুঁটির পাশেই রয়েছে বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং মানুষের চলাচলের রাস্তা। খুঁটিগুলো ভেঙে পড়লে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারগুলোও নিচু হয়ে ঝুলে থাকায় পথচারী ও রিকশা-অটোরিকশা চালকরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, খুঁটিগুলোর নিচের অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বারবার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেছেন। তবে তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন খুঁটি পরিবর্তনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। আরেক বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, ব্যস্ত রাস্তার পাশে এসব ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে, তাই দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ভৈরব বিউবির সহকারী প্রকৌশলী প্রণব দাস জানান, গ্রাহকরা সরাসরি অফিসে এসে বা ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানালে তারা বিষয়টি পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করেন। তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি বা তারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো অপসারণ করা সম্ভব হয়।





