সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: চিফ হুইপ

প্রকাশ:

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বুধবার সংসদ ভবনে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সংসদীয় কমিটি, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

চিফ হুইপ জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি প্রাথমিকভাবে ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হিসেবে পরিকল্পনায় থাকলেও প্রয়োজনে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে। তিনি আরও জানান, তৃতীয় অধিবেশনে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষাসহ প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে।

সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, জনগণের আস্থা ও নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে ৭ জন, জামায়াত থেকে ৫ জন এবং অন্যান্য ছোট দল থেকে একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাঁদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি বোঝাতে গত ৭৬ বছরে ভারতের সংবিধান ১০৬ বার সংশোধনের উদাহরণ টেনেছেন।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল জনগণের সমস্যা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করবে।

সরকারের ছয় মাসের কার্যকাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো সরকারের পক্ষে মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। বড় অবকাঠামো বা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সময়ের প্রয়োজন, তাই জনগণের ধৈর্য ধরা এবং দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। এছাড়া বিগত সরকারের বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দায়মুক্তির ব্যবস্থা রেখে এমন আইন করা হয়েছিল, যার ফলে এসব চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত ছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন