বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার এক রায়ে জানিয়েছেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের জানুয়ারি মাসে ঘোষিত এই নীতি ছিল ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নিজের আইনি ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার করেছেন।
আদালতের রায়ে আরও বলা হয়েছে, যে নীতিতে কেবল আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসী ভিসা দেয়া ক্যাটাগরি অনুযায়ী পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা সংবিধিবদ্ধ আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন। বিচারক জ্যানেট ভার্গাস ডেমোক্রেটিক সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিযুক্ত বিচারক ছিলেন। তিনি তার রায়ে আরও উল্লেখ করেন, এই নীতি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী, কারণ সেই আইন অনুযায়ী কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রমের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি কর্তৃত্ব সরিয়ে নিয়েছে।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে, বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়াসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশের ভিসা আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেসময় দাবি করেছিল, এসব দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীদের ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দু’টি অভিবাসী অধিকার রক্ষা সংস্থা এবং এসব নির্ধারিত দেশের নাগরিক ও স্বজনদের জন্য ভিসার আবেদনকারী মার্কিন নাগরিকদের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় এলো। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এই রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেছিলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
গত বছরের নভেম্বরে ওয়াশিংটনে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিল। এরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করবেন। অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলোর মতে, সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য একটি অনিষম ও বৈষম্যমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।





