ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

প্রকাশ:

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেট তারকা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়। ইমরান খান বরাবরই এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন এবং সব ধরনের অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ইমরানের মুখপাত্র নাঈম হায়দার পাঞ্জুথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইমরান খানের পরিবার ও দল তাকে হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছিল। কারাগারে থাকার সময় তার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে তার পরিবার ও আইনজীবীরা নিয়মিত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। আইনজীবীদের দাবি, কারাগারে থাকাকালীন ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক আদেশ। আমরা এটি আরও আগেই চেয়েছিলাম। তাহলে তার চোখ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না।” তিনি আরও বলেন, সব চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ইমরানকে হাসপাতালে রাখা উচিত।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার, বেআইনি বিয়ে এবং অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সমর্থকদের অভিযোগ, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এসব মামলা করা হয়েছে, যদিও কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা ইমরানের কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করা ইমরান খান ক্ষমতা হারানোর পরও পাকিস্তানের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে তার দলকে নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি, তবুও তিনি কারাগারে থাকা সত্ত্বেও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন।

শেয়ার করুন