কক্সবাজারের হোটেল সী-গালের রেস্তোরাঁয় দেশি মুরগি হিসেবে সোনালি মুরগি পরিবেশনের অভিযোগ তুলেছেন এক পর্যটক। এই ঘটনার প্রতিকার চাইতে গিয়ে হোটেলটির রেস্তোরাঁ ম্যানেজারের কাছ থেকে রাজনৈতিক প্রভাবের ভয় দেখিয়ে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রাসেল উদ্দিন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গত ৯ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে হোটেলটির ৭১৫ ও ৭১৭ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
রাসেলের অভিযোগ, হোটেলের রেস্তোরাঁয় দেশি মুরগির অর্ডার দিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরও তাদের সোনালি মুরগি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করে নেয়। এরপর তিনি জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফোনে অভিযোগ করেন, তবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীতে হোটেলটির রেস্তোরাঁ ম্যানেজার মীর কামরুল হাসান তাকে ফোন করে রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বলে হুমকি দেন। রাসেল এ ঘটনায় সরকারের কেন্দ্রীয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মীর কামরুল হাসানকে হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুসম্পর্ক এবং হোটেলটি তারেক রহমানের হোটেল বলে দাবি করতে শোনা যায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। থানার এসআই শুভ্র রুদ্র বাদী হয়ে মামলাটি করেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে পর্যটককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ মামলাটি করেছে এবং অভিযুক্ত ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হোটেল সী-গাল গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুম ইকবাল জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ম্যানেজার মীর কামরুল হাসানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের আচরণ প্রতিষ্ঠানের নীতির পরিপন্থী। এদিকে, পর্যটক রাসেল উদ্দিনের করা লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সেবাস্টিন রেমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ঘটনার পেছনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।





