হাঙ্গেরির পূর্বাঞ্চলে পোল্যান্ডের পর্যটকবাহী একটি বাস খাদে পড়ে উল্টে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও ৪৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থা। বার্তা সংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার হাঙ্গেরির মেজোকেরেস্তেশ শহরের কাছে এম-৩ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রাজধানী বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। পুলিশ জানিয়েছে, সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা করা বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুজন চালক ছিলেন। পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলেই ১১ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়, যার ফলে মোট নিহতের সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েন। তাদের উদ্ধারে দমকলকর্মী ও অন্যান্য উদ্ধারকারীকে বাসের জানালা ভেঙে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসটির চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। পুলিশ আরও জানায়, নিউরেগিহাজা শহরের দিকে যাওয়ার সময় পোলিশ নিবন্ধিত বাসটি সোজা সড়ক থেকে হঠাৎ ছিটকে খাদে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর বাসচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, দেশটির কনস্যুলার সেবা সক্রিয় রয়েছে এবং তারা হাঙ্গেরির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি আরও জানান যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যাচাই করা তথ্যই প্রকাশ করা হবে। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কিও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, হাঙ্গেরিতে পোলিশ বাস দুর্ঘটনায় এতসংখ্যক দেশের নাগরিকের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।
জানা গেছে, ২০০৩ সালের পর হাঙ্গেরিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা। ওই বছর শিওফকে একটি ট্রেন জার্মান পর্যটকবাহী বাসে ধাক্কা দিলে ৩৩ জন নিহত হয়েছিলেন।





