দারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় সেশনেই অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ম্যাচটিতে বাকি ছিল আরও একদিনের বেশি সময়, কিন্তু প্যাট কামিন্সের শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দল চার দিনের খেলায় একবারও আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা পুরো ম্যাচজুড়ে দাপটের সঙ্গে খেলে এক দিন হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছেছে।
ম্যাচ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাকি থাকা একদিনে দল কী করবে। উত্তরে নাজমুল বলেন, এই ধরনের জয় জীবনে খুব কম আসে, তাই পুরো দিনটি ভালোভাবে উদ্যাপন করাই তাদের লক্ষ্য।
এই জয়ে দলের সব খেলোয়াড়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন নাজমুল। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে আমার ম্যাচসেরা বাংলাদেশ দল। আপনি যদি দেখেন, সবাই কোনো না কোনো জায়গায় অবদান রেখেছে।” ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান মাহমুদ। এছাড়া তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, নাজমুলের ৮৪ রান এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রান ও ৫ উইকেট শিকারের পাশাপাশি মুমিনুল হকের ৪৯ রান এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তা জয়কে নিশ্চিত করেছে। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের বোলিং এবং লিটন দাসের কিপিংয়ের অবদানের কথাও আলাদাভাবে স্মরণ করেন অধিনায়ক।
বিশেষ করে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের প্রশংসা করতে গিয়ে নাজমুল জানান, প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে হাসান মাহমুদের ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি এবং তাসকিনের সঙ্গে মিরাজের ৯৬ বলে ৪৬ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে দুই শতাধিক রানে পিছিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। নাজমুলের মতে, দলের সবার জায়গা থেকেই ছোট ছোট অবদান এই ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য।
যেমন ধরুন মুমিনুলের ৪৯, তাসকিন ও ইবাদতের ২টি করে উইকেট, লোয়ার অর্ডারে দৃঢ়তা কিংবা আজ চতুর্থ দিনে সকালের সেশনে লিটন দাসের নেওয়া অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ—বাংলাদেশের জয়ে তাদের পারফরম্যান্সের অবদানও কম নয়।
এমনকি সাদমানের প্রথম ইনিংসের ২০টা রানও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’.বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের আলাদা করে প্রশংসা করলেন নাজমুল।





